কবিতা – আষাঢ়

আষাঢ়
মোঃ সজীব সরকার
“””””””””””””””””””””””””””””””
ঝিম ঝিমা ঝিম বৃষ্টি পড়ে যেন রূপোর আঁশ।
বাংলাতে কি আসলো তবে সজল আষাঢ় মাস?
দেখছি এবার বৃষ্টির তালে রূপকুমারীর নাচ।
বন্ধ চোখেও লাগছে ভাল ভাবতে আষাঢ় সাজ।

বৃষ্টি জলে খালে বিলে ভরছে হরেক মাছ।
দুষ্টু ছেলে ভাসছে ভেলায় কাটছে কালার গাছ।
শিমের বীচি, কলাই, ছোলা, আরো ভাজা চাল। সূর্যি মামার ক্ষমতা শেষ উড়ছে মেঘের পাল।

বৃষ্টি বায়ে ঠান্ডা গায়ে খিচুড়িটার স্বাদ।
গরম গরম খাইতে মজা যে সোহাগ চাঁদ।
গ্রামে গঞ্জে হাটা চলায় শুধুই কাদা জল।
জল ভরা সেই মাঠে কারা খেলছে যে ফুটবল।

ছুটছে সবাই বলের পিছে যাচ্ছে পিছলে পা।
এটাই হলো বর্ষা ঋতুর অরূপ রূপের গাঁ।
উপর থেকে পরছে ঝরে বৃষ্টি রাণীর রূপ।
সেই সে রূপে নাও ভাসিয়ে রইছে মাঝি চুপ।

বৃষ্টি দেখে ডাক পেড়ে যায় দুষ্টু ছেলের দল।
আর রে তরা কোথায় আছিস ভিজবি নাকি চল।
স্মৃতিরা আজকে সবাই করছে দখল মন।
তাইত অনেক লাগছে ভালো আষাঢ় মাসের ক্ষণ।

কবিতার নাম “ভাবনা “

ভাবনা

সজীব সরকার

——————————

আমি যখন ছোট ছিলাম


কলেজ যাব ভেবেছিলাম।


করব অনেক পড়ালেখা।


হয়ে যাবে বিশ্ব দেখা ।


হয়ত আমি ডাক্তার হব


মস্ত বড় চাকরী পাব।


নয়ত আমি বিদেশ যাব


অনেক অনেক টাকা পাব।


বিলাস বহুল বাড়ি নিব


রূপসী বউ খুজে পাব।


এত বছর চলে গেল


আজকে আমার মনে হল।


ভাবনা গুলো সত্য ছিল


স্বপন গুলো মিথ্যা হল।

বিদ্রোহী কবিতা ” জীবনের মূল্য “

জীবনের মূল্য
মোঃ সজীব সরকার
“””””””””””””””””””””””””””””””
এই জীবনের মূল্য যদি কেরে নিবে তুমি।
কলম ছেড়ে অস্র হাতে তুলে নিবো আমি।
তোমার মত আমার জীবন আমার কাছে দামি।
নিজের মতই ভালবাসি আপন দেশের ভূমি।

রক্তে কেনা স্বাধীনতা কেরে নিলে তুমি।
একাত্তরের অস্র আবার তুলে নিবো আমি।
জীবন দিয়ে করব রক্ষা আমার দেশের জমি।
বাংলাদেশের হাজার শত্রু ভয় করিনা আমি।

সোনার মাটির শত্রু যদি আবার খুজে পাবো।
দরকার হলে যোদ্ধের ডাকে আমি অংশ নিবো।
রক্তের দাম ফুল দিয়ে নয় রক্ত দিয়ে দেবো।
আমার দেশের স্বাধীনতা তাহলেই ফের পাবো।

আমার মুখের মুক্ত কথা কেরে নিলে তুমি।
নতুন সালাম নতুন রফিক জন্ম দিবো আমি।
সংগ্রাম আমি শিখেছি ঐ পূর্ব পুরুষ থেকে।
জীবন দিতে থাকব আমি সত্য পথের ডাকে।

ছড়া – দুপুর বেলা

দুপুর বেলা
মোঃ সজীব সরকার
“”””””””””””””””””””””””””””
পুকুর পাড়ে আর যাবোনা
মধ্য দুপুর বেলা।
আমার দাদু বলছে সেথায়
ভূতেদের হয় খেলা।
ভূতের রাণী রোজ দুপুরে
পুকুর পাড়ে আসে।
গাছে গাছে ঘুরে বেড়ায়
পুকুর জলে ভাসে।
ভূতের রাণী দেখলে শিশু
ধরে নিয়ে যাবে।
আমি গেলে পুকুর পাড়ে
আমায় নিয়ে যাবে।
আমি যদি যাই হাড়িয়ে
পুকুর পাড়ে তবে।
মা বাবা মোর কাঁদবে বসে
কোথায় খুঁজে পাবে।
তাইত আমি দুপুর বেলা
মায়ের কাছে থাকি।
দুপুর বেলা ঘুম দিয়ে যে
ভূত কে দিলাম ফাঁকি

একটি গল্প ” আপন”

ভয়ংকর এক কালোরাতে বিরামপুর রেললাইনের পাশে বসেছিল এক ভিক্ষুক। চারদিক জন মানবহীন এবং স্তদ্ধ হয়ে আছে। স্বাভাবিক কোন মানুষ ঐ অবস্থাতে বসে থাকা অসম্ভব বলা চলে।
পাগল কিংবা ভিক্ষুকদের জীবন কাহিনী গুলোই এমন অস্বাভাবিক। তাদের রাত কাটানো, খাবার খাওয়া স্বাভাবিক হয় না। এই ভিক্ষুক বিরামপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে সারাদিন ভিক্ষা করে। রাতে ষ্টেশনে কিংবা আশে পাশে ঘুমিয়ে থাকে। রেল ষ্টেশনে যেমন ঘর ছাড়া ভিক্ষুক থাকে ঠিক তেমনি চুর, দেহ ব্যবসয়ী থাকে। আবার সময়ের অপেক্ষায় বিপদে পরেও ষ্টেশন এসে উঠে মানুষ।ঐ দিন ভিক্ষুকের বসে থাকা জায়গা থেকে একটু দূরে ছিলো বিরামপুর রেলষ্টেশন। বাস ষ্টেশন থেকে আসার পথে রেললাইনে বসেছিলো সে। সেখানে কিছুক্ষন আগেও লোকালয় ছিল কিন্তু রাতের শেষ ট্রেন চলে গেছে কিছুক্ষন আগে। এমন সময় ষ্টেশন বৃদ্ধ ভিক্ষুক এবং একটি কুকুর ছিলো। সেখানে কুকুরটি সারাক্ষন থাকে অনেক বছর যাবত। লোক মুখে শোনা যায় এই কুকুরটি ঢাকা শহরে এক ধনী পরিবারে আদরের পোষা ছিলো। কোন এক সময় ঐ পরিবারটি এই এলাকাতে তাদের গ্রামে ঘুরতে এসে কুকুরটিকে হারিয়ে ফেলেছে। তার পর থেকে কুকুরটি এই ষ্টেশনে থাকে। প্রতিদিন যতবার ট্রেন আসে এই ষ্টেশনে তখন ট্রেনের কাছে ছোটে যায়।কুকুরটির হয়ত বিশ্বাস ছিলো তার প্রিয় মালিকের প্রতি। কোন এক সময় কুকুরটি তার নিজ ঠিকানা খুঁজে পাবে। ট্রেনের শব্দ শুনলে তার হৃদয়টা আশা আকঙ্খায় পূর্ণ হত। এদিক থেকে ঐদিক ছোটাছোটি করত। একদিন ছোটতে ছোটতে ট্রেনের চাকার নিচে তার সামনের পা দুটি চলে যায়। তার বহুল অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়ে যায়। বন্দ হয়ে যায় ছোটাছোটি। খুটে খুটে চলে কুকুরটি। বেশির ভাগ সময় ষ্টেশনের শেষ প্রান্তে বসে থাকে। ট্রেন আসলে শান্তনার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে যদি মালিক এসে তাকে নিয়ে যায়! একদিন দুপুর বেলা কুকুরটা ঘুমিয়ে ছিলো। ষ্টেশন যাত্রী ছিলো অনেক। এক দুষ্ট ছেলে কুকুরটার উপর পাথর ছুড়ে মারছিলো।এরি মাঝে একটা ছোট পাথর চোখে পরে। পাথরের কণাটা আঘাত করেছে চোখে কিন্ত টুকর টুকর হয়ে গেছিলো তাত হৃদপিন্ড। কুকুরটা গেও গেও করে কান্না করতে করতে ষ্টেশন থেকে একটু দূরে গিয়ে বসে। চোখটা দিয়ে শুধু অশ্রু জলে ভেসে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছে কুকুরটির কন্ঠসর বন্ধ হয়ে, হৃদয়ের একটা চাওয়া জেগেছে, আমি আর বাঁচতে চাই না। চোখ দিয়ে সব সময় পানি পরত। এক সময় নিষ্ঠুর ভ্যাক্টেরিয়ার আক্তমনে ঐ চোখটায় পোকা হয়ে গেছে। এখন আর ষ্টেশনে মঝে এটাকে কেউ যাইতে দেয় না। দূর্গন্ধ ছড়ায় তাই। কুকুরটি বসে থাকতশেষ প্রান্তে। সেই কাল রাতেও সেখানেই ছিলো। একটা ভদ্রলোক রেল লাইন দিয়ে দৌড়ে আসছিল ষ্টেশনের দিকে । হঠাৎ ভিক্ষুকটাকে দেখে ভয় পেয়ে যায়। আর রাগে স্বজোড়ে লাথি মারতে থাকে। এক সময় ভিক্ষুক হাত পা ছেড়ে দিয়ে মাটিতে লোটিয়ে পড়ে। তার পর লোকটা তাকে লাথি মারা বন্ধ করে। সামনে ষ্টেশনের দিকে ছোটতে লাগলো। আবার সামনে গিয়ে ষ্টেশনে যাওয়ার আগে দেখল কুকুরটি। হালকা অন্ধকারে বসে আছে কুকুরটি। দুটি পা নাই, চোখ একটা ভংকর রূপের দেখে সে আবার ভয় পেয়ে যায়। কুকুরটি লোকটিকে দেখে তার দিকে খুব তাড়াতারি করে ছোটে আসতে লাগল। লোকটিত বড় আতংকের মাঝে পরে গেল। পিছনে কোন এক ভয় তাকে তাড়াকরে ষ্টেশনের দিকে ছুটে এসেছে। এমন ভাবে দৌড়াচ্ছিল যেন পেছনে বাঘ পরেছে। হয়ত বড় কোন বিপদ। পেছনে যাওয়ার সুযোগ নাই তাই একটু সামনে গিয়ে রেললাইনের পাথর দিয়ে কুকুরটাকে মারতে লাগলো । কুকুরটা পিছনের দিক চলে যায়। কিছুক্ষনের মধ্যে তিনজন লোক আবার ছোটে আসছিলো। লোক গুলোকে দেখে ভদ্রলোক আবার দৌড়। তিনজনের হাতেই ছিলো ধারালো ছুরি। তারা ষ্টেশনে আসার সাথে সাথে কুকুরটি লাফ দিয়ে একজনের কোমরে কামড় বসিয়ে দিলো। অরে মারে এই কি ভূত নাকি বলে লাফিয়ে উঠলো। যেভাবে কামড় বসিয়েছে আর ছারছে না। পাশের দুই জন হাতের ছুরি দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে। কুকুরটিও বীর সিংহের মত একের পর এক কামড় বসিয়ে যাচ্ছে তিনজনে উপর। ওদের ছুরির আঘাতও চলছিলো। এক পর্যায় লোক গুলো পালাতে বাধ্য হয়। কুকুরটি রক্তাক্ত হয়ে ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। রক্তে লাল হয়ে যাচ্ছে প্লাটফম। কিন্তু কুকুরটা আজ আনন্দিত। সামনে এগিয়ে দেখে অন্ধকারে ভদ্রলোক অজ্ঞান হয়ে পরে আছে। মাটিতে লোটিয়ে থাকা ভিক্ষুকও খুব কষ্টে এগিয়ে আসে। এসে দেখে সেই লোকটি মাটিতে পরে আছে। ভিক্ষুক পলিথিনে করে পানি এনে লোকটির মাথার দিল। ভিক্ষুকের সেবায় লোকটির জ্ঞান ফিরে আসে। লোকটি জ্ঞান ফিরার সাথে সাথে নাকে চাপ দিয়ে ধরে বলছে আহ : কি গন্ধ। মাথা উচু করে দেখে সেই কুকুর। আবার ভয়ে লাফ দিয়ে উঠে। চিৎকার করে বলে ভূত। ভিক্ষুক বলছে ভাই ভয়ের কিছু নাই। এই কুকুরটা আপনাকে প্রাণে বাচিয়েছে। এই কুকুরটা না থাকলে আমিও বুঝতাম না আপনি এখানে পরে আছেন। হয় ওদের হাতে মরতেন না হয় ট্রেনের নিচে চাপা পরে মরতেন।যেভাবে পরে ছিলে সকালে উপর দিয়ে ট্রেন গেলে টের পাইতেন। এঈ কুকুরটা গেও গেও করে এই রক্তাক্ত শরীল নিয়ে একবার আমার কাছে আসে আরেকবার আপনার কাছে যায়। এমন ভাবে যাতে আমি বুঝি এখানে কিছু আছে। ভদ্রলোক বলল কুকুরটা বাচবে না তাকে কিছু করেন। এত রাতে ডাক্তার কই পাবো। ভিক্ষুকটা কুকুরের কাটা গায়ে অনেক পাতার রস দিছে। ভিক্ষুকটা বলছে সাহেব এই হলো গরিবের ঔষধ। জানেন সাহেব এই কুকুরটা আমার রাতের সাথী। তার পর কুকুরের ছোট থেকে বড় হওয়া কাহিনী বলল। একটা ছোট মেয়ে দেখেছি এটাকে নিয়ে খেলছিলো। তারপর ট্রেন চলেগেলো সে এখানে থেকে গেলো আমার সাথে। ভদ্রলোকটি বলল এবার বুঝেছি, এই কারনে কুকুরটা আমার কাছে গিয়ে আসছিলো। কয়েক বছর আগে আমি তাকে এখানে হারিয়েছি। এটা আমার ছোট মেয়ের খেলার সাথী ছিলো। ট্রেনে উঠার সময় মালপত্র উঠাতে গিয়ে তাকে ট্রেন ছেড়ে দেওয়ায় তারে ট্রেনে উঠাতে পারি নাই। আজও সে আমাকে চিনতে পেরেছে। যার জন্য আমি কিছুই করতে পারি নি। সে আমার জন্য জীবন দিতে বসেছে। ভিক্ষুক বলল,আচ্ছা আপনি দৌড়াচ্ছিলেন কেন? লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে বললো যাদের জন্য জীবন শেষ করলাম। তারা আজকে আমার প্রাণ নিতে চায়। কষ্টের কথা অনেক বলতে পারবো আগে দেখি এর প্রাণ বাচাই। এই বলে কুকুরটার গায়ে হাত দিয়ে দিলো। পরে ধাক্কা দিলো। তারপর হঠাৎ হাত সরিয়ে নিয়েছে। ভিক্ষুক ধাক্কাদিলো তারপর বললো কষ্ট হচ্ছে না? মাথা নেরে জানিয়ে দিলেন,না! দুনিয়াতে বাঁচার জন্য কেউ আসে না। কি পরিমাণ দুঃখ সহ্য করতে পারে তা দেখতে এসেছি। চিল্লাইয়া মানুষরে বুঝাইয়া লাভ হইবো। এই বলে ভদ্রলোক উঠে চলে যাচ্ছে। আবার একটু দাড়িয়ে বলে, চলে গেলাম আমার সাথে তোমাকে নিতে পারলাম না। কারন আমার জীবনে সুখ পাওয়ার কিছুই নাই। আর তাকে কবর দিও উত্তরের পুকুর পারে। ভিক্ষুক ভারি কন্ঠে বলে, সবই হবে তবে এই প্লাটফমে আমি একা থাকবো আজ থেকে। তারপর কুকুরটি উত্তরের পুকুর পাড়ে কবর দে। যতদিন বেচে ছিলো বৃদ্ধ ভিক্ষুক এই ষ্টেশনেই ছিলো।

মাত্রাবৃত্ত ছন্দের কবিতা ” বাঁচার স্বপ্ন”

বাঁচার স্বপ্ন

সজীব সরকার

আমি যখন অনেক দূরে হারিয়ে যাবো ভাই।
আমায় কেহো আনবে খুঁজে এমন কেহো নাই।
অরে পৃথিবী তোমার কাছে একটু সুখ চাই।
আসবো ফিরে সুখের টানে হাড়িয়ে যদি যাই।
অগ্নে গীরি অগ্নী জ্বালা মনের মাঝে পাই।
দেহ আমার দেখতে ভাল ভিতর পোরে ছাই।
হিমালয়ের শীতল পানি মনের মাঝে চাই।
দুঃখ মনে খুঁজি আমার প্রিয় মানুষ তাই।
তাহার মাঝে থাকবো বেচে হাড়িয়ে যদি যাই।

অসাধারন একটি সনেট কবিতা ” বর্তমান”

বর্তমান
মোঃ সজীব সরকার
“””””””””””””””””””””””””””
দুনিয়াটা আজ খুজে ফেসবুকের রং।
যুবক যুবতীর সাথে মুরব্বী দল।
যাবেনা পাওয়া এমন কিরে আছে বল?
কেনা বেচা আনন্দ প্রেমের নামে ঢং।
চেনা নাই জানা নাই দেখে কার ছং।
চালাতেই পারে নুংরা রাজনীতির মল।
দেখছি পরিচয়হীন ছন্দ নামের দল।
দেখা যায় কত হরেক রূপের সং।

ফেসবুক পেয়েত কমেছে অনেক সুখ।
কষ্ট নাই দিতে প্রেমিকের হাতে চিঠি।
মোবাইলে দেখি আজ দুনিয়ার ছবি।
নিজ সাজের ছবিতে থাকে নিজ মুখ।
ঘরে বসে জানা যায় কিযে হয় মিঠি।
ফেসবুক পেয়ে হারিয়েছে আল্লাহ নবি।

Create your website with WordPress.com
শুরু করুন